দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের অর্থ লোপাট ও জালিয়াতির সাথে জড়িত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী অভিজিৎ অধিকারী তীর্থকে দুর্নীতির একটি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে [cite: দেশের অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সহযোগী ও সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থকে দুর্নীতির মামলায় পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।]। তিনি সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন [cite: দেশের অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সহযোগী ও সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিজিৎ অধিকারী তীর্থকে...]। সোমবার (২২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। পৃথক দুই ধারায় এই সাজা দেওয়া হলেও রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই ধারার সাজা একসাথেই চলবে, যার ফলে আসামিকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে।
আদালত এই দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করে পৃথক দুটি ধারায় সাজা নির্ধারণ করেছেন। সম্পদের তথ্য গোপন করার অপরাধে অভিজিৎ অধিকারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে আদালত তাঁকে এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ড বা জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৩০ দিন অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে [cite: ...এবং এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।]। তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অর্জিত এই সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছে রায়ে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে জানিয়েছেন যে, আসামি অভিজিৎ অধিকারী মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন [cite: ...জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব দে। তিনি জানান, আসামি মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।]। তিনি পলাতক থাকায় আদালতে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করে শুনানি করার সুযোগ পাননি। আদালত রায় ঘোষণার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৬ মার্চ, যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। প্রাথমিক এজাহারে অভিজিতের বিরুদ্ধে এক কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ ভোগদখল করার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগ আনা হয়েছিল [cite: তার বিরুদ্ধে এক কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অপরাধ উল্লেখ করা হয়।]।
পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ মে দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে তাঁর অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় এক কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ২৮৪ টাকায়। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। পুরো বিচার চলাকালীন আদালত মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জবানবন্দি রেকর্ড করেন। উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আজ আদালত এই সাজার রায় প্রদান করলেন।
মন্তব্য করুন