শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে গেলেই যেন অন্য এক শান্ত পৃথিবীর দেখা মেলে, যেখানে ট্রাফিকের শব্দ বা ব্যস্ততার পরিবর্তে শুধু পাতার মর্মর আর পাখির ডাক শোনা যায়। কমনওয়েলথ গেমসের উত্তেজনায় মুখর গ্লাসগো শহরের অন্য এক রূপ দেখা যায় এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্লাসগো বোটানিক্যাল গার্ডেনে। ১৮১৭ সালে যাত্রা শুরু করা প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাসবাহী এই উদ্যানটি আজও শহরের বুকে প্রকৃতির এক জীবন্ত স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রবেশপথের বিশাল সবুজ চত্বর, সারি সারি গাছ আর ফুলের বাগানের পাশ কাটিয়ে এই উদ্যানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিখ্যাত কিবল প্যালেস। ১৮৭৩ সালে নির্মিত এই বিশাল কাচের গম্বুজ ও ভিক্টোরিয়ান রাজপ্রাসাদের মতো কাঠামোটি আসলে পৃথিবীর নানা প্রান্তের দুর্লভ উদ্ভিদের এক আশ্চর্য মিলনমেলা, যা স্কটল্যান্ডের ঠান্ডা আবহাওয়ার মাঝেও উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
এই সবুজ বিকেলের একান্তে দর্শনার্থীদের ভিড়ে দেখা মেলে প্রবাসীর স্নিগ্ধ গল্পেরও, যার সঙ্গী হয়েছিলেন নোয়াখালীর ছেলে ও বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আশরাফ চৌধুরী। কাচঘেরা এই গম্বুজের ভেতরে ট্রপিক্যাল তালগাছ, ক্যাকটাস ও রঙিন অর্কিডের সমাহার দেখে মনে হয় মুহূর্তেই আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো জঙ্গলে চলে আসা হয়েছে। উদ্যানের শান্ত পরিবেশে বই পড়া, ছবি আঁকা কিংবা প্রবীণ দম্পতির হাত ধরে হাঁটার দৃশ্যগুলো প্রমাণ করে গ্লাসগোর মানুষ প্রকৃতিকে কতটা আপন করে নিয়েছে। বিকেলের নরম আলো যখন কিবল প্যালেসের কাচে পড়ে দীর্ঘ ছায়া তৈরি করে, তখন কংক্রিটের এই শহরেও যেন এক অন্যরকম শৈশবের আবহ তৈরি হয়। ব্যস্ততা আর আধুনিকতার ভিড়ে গ্লাসগো বোটানিক্যাল গার্ডেন তাই কেবল একটি উদ্যান নয়, বরং মানুষের বাঁচিয়ে রাখা এক জীবন্ত সবুজ স্বপ্ন।
মন্তব্য করুন