জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মহিলা আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের পৃথক দু’টি প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান জ্বালানি খাতের এই দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি নতুন কূপ খননের পাশাপাশি ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার টু-ডি এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার থ্রি-ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক বিডিংয়ের পাশাপাশি মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বা গভীর সমুদ্রে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রুফটপ সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং ল্যান্ড-বেইজড সোলার থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন