ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্রদের আন্দোলন দিন দিন আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২০ আগস্ট তার বাসভবন ঘেরাও করার চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যদি দ্রুত তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর কোনো সুরাহা না করেন, তবে ঝাড়খণ্ডের জেএমএম (JMM) নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে কংগ্রেসকে তাদের সমর্থন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনে রাজধানী রাঁচিতে জাতীয় পতাকা হাতে এক বিশাল তিরঙ্গা যাত্রা বের করা হয়। এই আন্দোলনের ২২তম দিনে হাজার হাজার ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যাদের মধ্যে হুইলচেয়ারে বসে অনশন চালিয়ে যাওয়া দুজন চাকরিপ্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান সংগঠন ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ’-এর নেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান ঘোষণা দেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ, রাহুল গান্ধী মুখে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও ঝাড়খণ্ড সরকারের ওপর কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যেসব নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তা অবিলম্বে বাতিল করা এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা। তারা প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ঝাড়খণ্ডের বাইরের কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অথবা কেন্দ্রীয় কোনো তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের (JSSC) সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের (JPSC) বেশ কিছু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের বক্তব্য, এই সংকট কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমিত নয়, বরং এর সঙ্গে হাজার হাজার তরুণের ভবিষ্যৎ এবং পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা জড়িত। এদিকে আন্দোলনকারীদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন যে, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের কারণে তরুণ প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তিনি ঘোষণা দেন যে, অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং যারাই দোষী প্রমাণিত হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সরকারের তরফ থেকে সংস্কারের নানা আশ্বাসের কথা বলা হলেও আন্দোলনকারীরা তাতে সন্তুষ্ট নন এবং স্বাধীন তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ফলে আগামী ২০ আগস্টের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজ্য রাজনীতিতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন