প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের বিগত ১৭ বছরের ন্যায় আগামী দিনগুলোতেও ইস্পাত কঠিন ঐক্য বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দলীয় ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনোই দলের ঐক্য নষ্টের কারণ হতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ঐক্যে ফাটল ধরলে ফ্যাসিস্ট দোসর বা গুপ্তচররা দলে ঢুকে পড়ার সুযোগ পায়, যা দলের জন্য ক্ষতিকর। বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই দুঃসময়ে যখন আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তখন এখন কেন পারবেন না? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’ নেতাদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো অশুভ শক্তি যেন এই উৎসবকে ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে কেবল লুটেরাদের পকেট ভারী করা হয়েছে। তিনি শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে জানান, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে। উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষির সার্বিক উন্নয়ন। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং সারাদেশে ১ হাজার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং ও শিক্ষা খাতের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের সেবায় কাজ করছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত নেতাকর্মীদের অত্যন্ত বুঝে-শুনে ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটাও একটি পরিবারের মতো, তাই শৃঙ্খলার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন