২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের দলনেতা রদ্রি এবং তরুণ তুর্কি ইয়ামালদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মূল মঞ্চে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মৃদু চেষ্টা করলেও ৮০ বছর বয়সি মার্কিন এই নেতা স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের আনন্দ উদযাপনের মাঝেও বেশ কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি স্পটলাইটের একটি বড় অংশ নিজের দিকে কেড়ে নেওয়ার নেপথ্য কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
রোববার রাতে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের সমাপনী আয়োজন এবং ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে পুরোটা সময় জুড়ে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ট্রাম্প। এর আগে ফিফা সভাপতির সঙ্গে যখন তিনি মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে দর্শকদের একটি অংশের কাছ থেকে তাকে ব্যাপক দুয়ো ধ্বনিও শুনতে হয়। তবে এসব সমালোচনা ও স্টেডিয়ামের বৈরী পরিবেশকে পাত্তাই না দিয়ে তিনি নিজের মতো করে পুরো মুহূর্তটি উপভোগ করেন। ইতোমধ্যেই এই বিশ্বকাপকে তিনি ‘সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রীড়া ইভেন্ট’ বলে বড়াই করে আখ্যায়িত করেছেন।
স্পেন দল যখন উল্লাসে ফেটে পড়ে এবং রদ্রি উঁচিয়ে ধরেন কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফিটি, তখন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে একটু সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জনাকীর্ণ ও বড় পাবলিক ইভেন্ট সবসময় পছন্দ করা ট্রাম্প সেখানে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ঠিক সামনেই তার সুপরিচিত সিগনেচার ‘ট্রাম্প ড্যান্স’-এর একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও প্রদর্শন করেন। নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং এবং জনসমক্ষে উপস্থিতি জানান দেওয়ার কোনো সুযোগই তিনি হাতছাড়া করতে চাননি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে চড়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো ট্রাম্প ম্যাচ চলাকালীন ফিফা সভাপতি এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ঠিক পাশেই বসে খেলা উপভোগ করেন। মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দাঁড়িয়ে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আর্জেন্টিনার হারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘দুঃখিত নন’। বরং স্পেন দল ফাইনালে তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রফি বিতরণী মঞ্চের এই দীর্ঘ উপস্থিতি এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক ট্রাম্পের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বড় সুযোগ ছিল। ফাইনালের ফাঁকে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গেও তার কথা হয়। সম্প্রতি ইরান সংকটে সহায়তা না করা এবং ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করায় মাদ্রিদের তীব্র সমালোচনা করলেও, সানচেজের সঙ্গে এই কথোপকথনে কোনো ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি বলেই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প অত্যন্ত সচেতনভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের এই বৈশ্বিক আসরের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডকে জড়িয়ে নিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোকে আতিথেয়তা দেওয়া এবং ফাইনাল মঞ্চে এই দীর্ঘ ও নাটকীয় উপস্থিতি তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন