রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তরুণ আলাল হোসেন রাজুর (২৮) মরদেহ অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কফিনবন্দি মরদেহটি গাংনীর মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখার জন্য স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার শত শত মানুষ ভিড় করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ১৩ মাস আগে সহায়-সম্বল বিক্রি ও ধার-দেনা করে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন হোগলবাড়িয়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে আলাল হোসেন। সেখানে তিনি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গত ২৫ আগস্ট ওই গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে নিখোঁজ ছিলেন রাজুও। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বিদেশে থাকা অবস্থায় তার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলেও হৃদ্রোগে আক্রান্ত সন্তানকে জীবিত অবস্থায় একবারও কোলে নিয়ে আদর করতে পারেননি রাজু। চলতি মাসেই তার দেশে ফিরে পরিবারকে সময় দেওয়ার কথা ছিল। ধার-দেনার বোঝা আর একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে রাজুর পরিবার এখন গভীর শোক ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
মন্তব্য করুন