দেশের বাজারে কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে অবশেষে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে আমদানি। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আবারও কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে আমদানিকারকদের এই পদক্ষেপে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৮০ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। গত সোমবার প্রথম চালানে ৯.২ টন মরিচ আসার পর মঙ্গলবার তিনটি ট্রাকে আসে ৪২.২২ টন এবং বৃহস্পতিবার ও শনিবার যথাক্রমে ১৪ টন ও ১৫ টন কাঁচামরিচ দেশে প্রবেশ করে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে আসা এই চালানগুলোর কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করতে সার্বিক সহযোগিতা করছে শিমু শিপিং লাইনস ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ট্রাক পৌঁছানোর পরপরই তা দ্রুত খালাস করে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচামরিচ ৩০৫ ডলারে আমদানি করা হচ্ছে, যার ফলে সব মিলিয়ে প্রতি কেজি মরিচের আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ১৩৫ টাকা। তবে আমদানিকারকরা কাস্টমসের কিছু জটিলতা ও পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত খরচ ও লোকসানের আশঙ্কার কথা জানালেও এর সরাসরি সুফল মিলছে খুচরা বাজারে। মাত্র কয়েকদিন আগেও বেনাপোলের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আমদানির প্রভাবে দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে। স্থানীয় বিক্রেতাদের ধারণা, আমদানি অব্যাহত থাকলে ও সরবরাহ আরও বাড়লে দাম অচিরেই ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
মন্তব্য করুন