যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে বসে পাঁচটি ম্যাচ দেখা হয়ে গেছে। সেই তালিকায় সবশেষ সংযোজন ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি। প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। দুপুর ১২টার কড়া রোদ আর আর্দ্রতার কারণে গ্যালারিতে বসে ম্যাচ উপভোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও মাঠের ফুটবলের উত্তেজনা সেই কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছিল।
ম্যাচটিতে স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও জয়সূচক গোলটি ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসেছে, তবে পুরো ৯০ মিনিট স্পেন যেভাবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে, তা প্রশংসনীয়। তাদের শক্তিশালী মাঝমাঠ বেলজিয়ামকে কোণঠাসা করে রেখেছিল। বিশেষ করে তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের প্রতি সতীর্থদের আস্থা এবং তার পায়ের কারুকার্য ছিল দেখার মতো। অনেকটা মেসির মতো তাকে ঘিরেই স্পেনের অধিকাংশ আক্রমণ গড়ে উঠছিল।
এই জয়ে বড় ভূমিকা ছিল মিকেল মেরিনোর। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বদলি হিসেবে নেমে তিনি জয়সূচক গোলটি করেছেন। তাকে পারফেক্ট ‘সুপার সাব’ বলা যেতেই পারে। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ভুগতে হয়েছে গোলরক্ষক পরিবর্তনের কারণে। মূল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ইনজুরিতে পড়ার পর মাঠে নামা সেনে লামেন্সের হাত ফসকে যাওয়া বলটিই স্পেনের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। স্পেনের এই জয় ছিল তাদের প্রাপ্য।
বিশ্বকাপের এই ভ্রমণটি আমার কাছে শুধু ফুটবলের উন্মাদনা দেখার মাধ্যমই নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাওয়ার দারুণ এক সুযোগ ছিল। স্টেডিয়ামে প্রিয় দেশের পতাকা হাতে ভক্তদের উপস্থিতি আমাকে আবেগপ্রবণ করেছে। হোটেল থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের বাইরে পর্যন্ত অসংখ্য বাঙালি ভক্তের উষ্ণ আতিথ্য আর ভালোবাসা আমি কখনোই ভুলব না।
সবশেষে বলতে হয়, স্পেন এখন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স যেভাবে নিজেদের মেলে ধরছে, তাতে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও স্পেন কিন্তু তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া। ব্যবধানটা খুব একটা বেশি নয়। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই ম্যাচের উন্মাদনা আর স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস আমার স্মৃতিতে অনেকদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। ১৩ জুলাই এখান থেকে যাত্রা শুরু করে ১৫ তারিখ নাগাদ ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় আছি।
মন্তব্য করুন