ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুন রিয়েলিটি শো আসা মানেই দর্শকদের মধ্যে এক বাড়তি উত্তেজনা। সম্প্রতি প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেয়েছে নতুন রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’। শো-টির সঞ্চালক হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা কুনাল খেমু, যিনি তার সাবলীল উপস্থাপনা দিয়ে দর্শকদের মন কেড়েছেন। শো-এর প্রথম দুটি এপিসোড দেখার পর এটি পরিষ্কার যে, ‘অ্যালায়েন্স’ কিছুটা পরিচিত ফরম্যাটের হলেও নতুনত্বের স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এই শো-তে অংশ নিয়েছেন রবি কিষাণ, কুশল ট্যান্ডন, ডেইজি শাহ, মিনি মাথুর, নিখিল চিনাপ্পা এবং নিতি টেলরের মতো জনপ্রিয় তারকাদের একটি দারুণ মিশ্রণ। শো-এর মূল ভিত্তি হলো জোড়ায় জোড়ায় আসা প্রতিযোগী, কিন্তু গেমের নিয়মে তারা কতটা একে অপরের সহযোগী হয়ে থাকতে পারবেন, তা নিয়েই মূলত নাটকীয়তা। ‘অ্যালায়েন্স’-এর হাউস ডিজাইন এবং ‘সিস্টেম’ নামক নতুন টুইস্টটি দর্শকদের আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। গেমের নিয়ম বেশ চ্যালেঞ্জিং প্রতি সপ্তাহে স্কোরবোর্ডের শীর্ষে থাকা দল তাদের জোটের একজনকে জেতার সুযোগ করে দেয়।
সঞ্চালক হিসেবে কুনাল খেমুর পারফরম্যান্স এই শো-এর অন্যতম বড় প্রাপ্তি। তিনি খুব সহজভাবে নিয়মগুলো বোঝান এবং তার মজার ও ধারালো মন্তব্যগুলো দর্শকদের বিনোদিত করে। যদিও অনেক প্রতিযোগীকে এখনও তাদের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি, তবে কুশল ট্যান্ডন বা ভানশাজের মতো প্রতিযোগীদের গেম-প্ল্যান কিছুটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী এপিসোডগুলোতে লড়াই আরও জমে উঠবে। রবি কিষাণ শো-এর বড় নাম হলেও তাকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।
সব মিলিয়ে ‘অ্যালায়েন্স’ একটি উপভোগ্য রিয়েলিটি শো। কিছু কিছু জায়গায় মনে হতে পারে এটি পরিচিত কোনো শো-এর মিশ্রণ, তবে এর দ্রুত গতির এপিসোড এবং টানটান উত্তেজনার চ্যালেঞ্জগুলো দর্শককে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। যদি প্রতিযোগীরা শুধু নাটক নয়, বরং প্রকৃত গেমপ্ল্যানে মনোযোগ দেন, তবে ‘অ্যালায়েন্স’ ভারতের রিয়েলিটি শো-এর ইতিহাসে একটি দারুণ সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আইডিভা (iDiva) পর্যালোচনা।
মন্তব্য করুন