ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সংকটে ফেলতে এবার দেশটির মৌলিক পরিষেবাগুলোর ওপর আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ইরানের ওপর একটি ‘মানবিক চাপ’ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন, যেখানে জ্বালানি ও যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি সরবরাহ লাইনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যদিও নিরাপত্তা জনিত কারণে মন্ত্রী নির্দিষ্ট স্থান বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করেননি, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জরুরি সংস্কার কাজ চলছে। বর্তমানে ইরানের অনেক এলাকায় পানি ও বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ রাখার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান সরকার এই অবকাঠামোগত হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সেবা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্ধারকারী ও কারিগরি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাধারণ ইরানিদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের পর এখন ইরানে এই পানি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন