কুরাসাও দলের নারী ডাক্তার সুজান হুরমানের মতে, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সে শারীরিক প্রভাবের চেয়ে মানসিক প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার এই দর্শনের পেছনে প্রধান কিছু কারণ রয়েছে:
মানসিক প্রশান্তি ও প্রাণোচ্ছলতা: হুরমানের বিশ্বাস, পরিবারের সদস্য বা সঙ্গিনীর সান্নিধ্য ফুটবলারদের মানসিক চাপমুক্ত রাখে। বড় টুর্নামেন্টে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি মনে করেন, সঙ্গিনীর সঙ্গে সময় কাটানো খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক ফুরফুরে ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ফেডারেশনের ভূমিকা: কুরাসাও দলের অনেক খেলোয়াড় আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল নন এবং তাদের জন্য আমেরিকায় পরিবারের খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। এ ক্ষেত্রে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এগিয়ে এসেছে এবং খেলোয়াড়দের পরিবারকে নিয়ে আসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে। এই উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়রা কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা ছাড়াই পরিবারকে কাছে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কোচ ও ম্যানেজমেন্টের নতুন দর্শন: বিশ্বকাপে অনেক দল যেখানে স্ত্রী বা বান্ধবীদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে, সেখানে কুরাসাও সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটেছে। কোচ ডিক অ্যাডভোকেট খেলোয়াড়দের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে থাকার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং তাদের জন্য বাড়তি রুমের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সুজান হুরমানের অভিজ্ঞতা: ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত সুজান হুরমান এই বিশ্বকাপের একমাত্র নারী মেডিক্যাল স্টাফ। রিয়াল মাদ্রিদ ও নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মতো বড় বড় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়দের প্রাণোচ্ছল রাখাটাই দলের সাফল্যের চাবিকাঠি।
কুরাসাও বর্তমানে 'ই' গ্রুপে দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে আছে। শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয় পেলে তাদের রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠের খেলায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে তারা ইতিমধ্যে চমক দেখিয়েছে, আর এখন দেখার বিষয় হুরমানের এই ভিন্নধর্মী পরামর্শ তাদের পরবর্তী ম্যাচে কতটা কাজে আসে।
মন্তব্য করুন