রাউল হিমেনেজ ও জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল মেক্সিকো। ঘরের মাঠ আজতেকায় অপরাজিত থেকে তারা এখন পরবর্তী লড়াইয়ের অপেক্ষায়।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেক্সিকো তাদের ‘ফোরট্রেস আজতেকা’র শ্রেষ্ঠত্ব আবারো প্রমাণ করল। মঙ্গলবার রাতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক দুর্দান্ত ম্যাচে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। এই জয়ে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট বাধা পার করল মেক্সিকো। এখন পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গো।
ম্যাচের শুরুতে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা এক ঘণ্টা পিছিয়ে শুরু হয়। তবে মাঠের খেলায় মেক্সিকান খেলোয়াড়রা যেন ঝড়ের গতিতেই শুরু করেছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই ইকুয়েডরকে কোণঠাসা করে ফেলে মেক্সিকো। প্রথমার্ধেই জুলিয়ান কুইনোনেস বাঁ-দিক দিয়ে ঢুকে ইকুয়েডর গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেজকে পরাস্ত করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল টুর্নামেন্টে কুইনোনেসের তৃতীয় গোল। এর কিছুক্ষণ পরই ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার জোয়েল অর্ডোনেজের ভুলকে কাজে লাগিয়ে ওলভসের ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ দলের ব্যবধান ২-০ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সেবাস্টিয়ান বেকাসেসে’র দল কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দলটির বিপদ আরও বাড়ে। বর্তমান বিশ্বকাপে মেক্সিকো তাদের খেলা ৪টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। তাদের এই রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও আজতেকা স্টেডিয়ামের ৮২,০০০ দর্শকের উন্মাদনা তাদের প্রতিপক্ষদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজতেকা স্টেডিয়ামের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতা এবং দর্শকদের বিশাল চাপ মেক্সিকোর জন্য এক বড় বাড়তি পাওনা। পরিসংখ্যান বলছে, এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে মেক্সিকো ৭০টিতেই জয়ী হয়েছে, যা তাদের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। এখন ইংল্যান্ড বা ডিআর কঙ্গোর পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে মেক্সিকোর এই ‘আজতেকা দুর্গ’ জয় করা সত্যিই সহজ হবে না।
উচ্চতা এবং দর্শকদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে মেক্সিকোর মতো দলের বিপক্ষে খেলা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কতটা কঠিন হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?