ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার খবরের ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। এশিয়ার বাজারে বুধবার ২৫ মার্চ দিনের শুরুতেই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুদ্ধ বন্ধে বর্তমানে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা চলছে এবং এর পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের (WTI) দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আলোচনার প্রক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি যুক্ত আছেন এবং তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তেহরান থেকে একটি বড় ধরণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে যা তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। তেহরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এ ধরণের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর সম্পূর্ণ ভুয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজের সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণ করছে। উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল। তেলের বাজারে এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বাজার এখনও অস্থির রয়েছে।
মন্তব্য করুন