মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তার ঘুমের রুটিন। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলমেশিন বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার রিকভারি বা ক্লান্তি দূর করার মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত ঘুম। হালান্ডের ব্লু-লাইট-ব্লকিং চশমা পরা, নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে চলা কিংবা ঘুমানোর সময় মুখে টেপ লাগানোর মতো আলোচিত অভ্যাসগুলো সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহল তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো চটজলদি সমাধানের চেয়ে ধারাবাহিকতা বা ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চলাই দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি রাতে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম অপরিহার্য, যা শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক তীক্ষ্ণতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ঘুমের সময় শরীর গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ করে, পেশীর টিস্যু মেরামত করে এবং প্রশিক্ষণের সময় শেখা নতুন দক্ষতা মস্তিষ্কে স্থায়ী করে।
হালান্ডের আলোচিত ঘুমের রুটিনগুলোর মধ্যে ব্লু-লাইট-ব্লকিং চশমা ব্যবহার এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনার বিষয়টি বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শরীরের প্রাকৃতিক মেলাটোনিন চক্রকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, ফলে দ্রুত ঘুম আসে। তবে ঘুমানোর সময় মুখে টেপ লাগানো বা ‘মাউথ টেপিং’-এর বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, সুস্থ ব্যক্তি বা ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি ব্যবহারের স্বপক্ষে এখনো উচ্চ-মানের বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব রয়েছে। এছাড়া নাক বন্ধ থাকা বা ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, কোনো ম্যাজিক ট্রিক নয় বরং নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, সন্ধ্যায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করা, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং ঘুমানোর প্রায় আট ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ঘুমের গুণগত মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। যদি কারো অতিরিক্ত নাক ডাকা বা পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি থেকে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্লিপ স্টাডির মাধ্যমে কোনো গুরুতর সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। দিনশেষে, নিখুঁত কোনো ঘুমের কৌশলের চেয়ে ঘুমকে প্রতিদিনের অগ্রাধিকার দেওয়াটাই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন