স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ পর্যন্ত মোট আটটি পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি পে স্কেলেই মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে। অতীতে কোন পে স্কেলে কী পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথম পে স্কেল (১৯৭৩): যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। ১০টি গ্রেডে বিভক্ত এই পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় পে স্কেল (১৯৭৭): এই পে স্কেলে গ্রেড বাড়িয়ে ২১টি করা হয়। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডে ৭৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়ে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়।
তৃতীয় পে স্কেল (১৯৮৫): এই পে স্কেলে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি ঘটে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ১২২.২২ শতাংশ বেড়ে ৫শ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়।
চতুর্থ পে স্কেল (১৯৯১): চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ৯শ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়।
পঞ্চম পে স্কেল (১৯৯৭): ১৯৯৭ সালের এই পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ৫শ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়।
ষষ্ঠ পে স্কেল (২০০৫): ২০০৫ সালে ঘোষিত এই পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৬০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২ হাজার ৪শ টাকা ও ২৩ হাজার টাকা হয়।
সপ্তম পে স্কেল (২০০৯): এই পে স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়িয়ে ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অষ্টম পে স্কেল (২০১৫): এটিই বাংলাদেশের সর্বশেষ বাস্তবায়িত পে স্কেল। এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছিল।
বর্তমানে নবম পে স্কেল নিয়ে নানা আলোচনা চলছে এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন