দেশের তৈরি পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি মনে করেন, পোশাক শ্রমিকদের এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।
গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শ্রমিকদের মধ্যে এই স্কিম জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে তিনি প্রস্তাব করেন যে, প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে এবং শ্রমিকদের পেনশন গ্রহণের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা উচিত।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, নাগরিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা জমা দিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন সুবিধা পাবেন। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক রয়েছে এমন প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ও সহ-সভাপতি মোড. রেজোয়ান সেলিম এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে বলে জানান।
মন্তব্য করুন