দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ও আনুষ্ঠানিক প্রচারের মাধ্যমে নিজের পোড় খাওয়া নেতার ভাবমূর্তি তৈরি করে আসলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বেশ ভিন্ন রূপে দেখা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার সরব উপস্থিতি এবং স্বতঃস্ফূর্ত রিল ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ৭৫ বছর বয়সি এই নেতার টিম এখন তরুণদের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য সেলফি-স্টাইল ভিডিও এবং ব্যক্তিগত ঘরানার কনটেন্টের ওপর জোর দিচ্ছে।
অতীতে নরেন্দ্র মোদির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি বার্তা বা প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য প্রচার করা হলেও, বর্তমানে তাকে জেন-জি প্রজন্মের ভাষা ব্যবহার করতে এবং বন্ধু বলে সম্বোধন করতে দেখা যাচ্ছে। ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের সরব প্রতিবাদের মুখে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অনলাইন কৌশলগত টিমের এই পরিবর্তন বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের মোট জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশের বয়স তরুণ হওয়ায় এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই জেন-জি ভোটাররা একটি বড় ভূমিকা পালন করতে যাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে ইনস্টাগ্রামে মোদির এই নতুন ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের পর যেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলেছে, তেমনি তা নিয়ে কিছু সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও কম হয়নি। অনেক তরুণ মনে করছেন, ভিডিওগুলোতে জেন-জি'র ফরম্যাট ব্যবহার করা হলেও যুব সমাজের আসল সংকট বা দাবিগুলো নিয়ে সেভাবে কথা বলা হচ্ছে না। তাছাড়া ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ও ট্রেন্ড সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রিল অনেক সময় ট্রল বা মিমের খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিল বা মিমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভিউ পাওয়া গেলেও তা দিয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমর্থন বা ভোট নিশ্চিত করা যায় কি না, সেটাই এখন মূল দেখার বিষয়
মন্তব্য করুন