দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি বজায় রাখতেই দীর্ঘ ১০ বছর পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে, যা অর্থ বিভাগের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে কার্যকর করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) সংশোধিত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের মেধাবৃত্তি মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করার কথা রয়েছে। একইভাবে মাধ্যমিক (এসএসসি) পর্যায়ে মেধাবৃত্তি ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ে ৮২৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাসিক বৃত্তির পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে বার্ষিক এককালীন অনুদানের পরিমাণও দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ বহনে সহায়তা করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া সাধারণ বৃত্তির পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, উপজাতি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত হার সমানভাবে কার্যকর হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বৃত্তির হার বৃদ্ধির এই উদ্যোগটি শিক্ষা খাতে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে এবং মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার পথে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। অর্থ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই এই নতুন বৃত্তির হার কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মন্তব্য করুন