ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরের পর্দা নামার আগে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। শনিবার রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। ১০ গোলের সেই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে গত ছয় দশকের মধ্যে সেরা সাফল্যের নজির গড়লেন থমাস টুখেলের শিষ্যরা। ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের কোনো পুরুষ বিশ্বকাপে সেরা ফলাফল।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরাজিত হলেও, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে ইংলিশরা। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল গোলবন্যা। ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগকে বারবার পরাস্ত করে প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধান গড়ে দেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষদিকে ফ্রান্স লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও, জুড বেলিংহামের গোল দলের জয় নিশ্চিত করে। বেলিংহাম এই টুর্নামেন্টে মোট ৭টি গোল করে ইংল্যান্ডের হয়ে যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে এককভাবে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোচ থমাস টুখেলের কৌশল এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে কিছু গুঞ্জন থাকলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে তার উত্তর দিয়েছেন ইংলিশ তারকারা। ফ্রান্সের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া ভবিষ্যতের জন্য এক বড় সংকেত। এই জয়ে যেমন দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা কাটিয়ে ওঠার পথে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেন, সেমিফাইনালের হারটি তাদের জন্য বড় শিক্ষা ছিল, তবে তৃতীয় স্থান অর্জন করাটা দলের ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ। অন্যদিকে, এই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কোচ দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ। ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টেনে বিদায় নিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের কাছে এই জয়টি কেবল একটি পদক নয়, বরং ১৯৬৬ সালের সাফল্যের পর তাদের নতুন প্রজন্মের ফুটবলে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেপ্টেম্বর মাসে নেশনস লিগে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের নতুন যাত্রা শুরু করবে ইংলিশরা।
মন্তব্য করুন