পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। রোববার সীমান্ত সংলগ্ন আফগান প্রদেশগুলোতে পাকিস্তান বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তালেবান কর্তৃপক্ষ এবং পাকিস্তান সরকারের তথ্যে ব্যাপক ফারাক দেখা যাচ্ছে। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘নৃশংসতা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১০০ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযানে ২৯ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে শনিবার পাকিস্তানের করাচিতে আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার জের ধরে। ওই হামলায় রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত হন এবং পাকিস্তান দাবি করেছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিক ছিল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান তাদের সীমান্ত সংলগ্ন পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে অভিযান চালায়। পাকিস্তান সরকারের ভাষ্যমতে, এটি তাদের দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব। পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যা তালেবান সরকার বরাবারই অস্বীকার করেছে।
দুই দেশের মধ্যে গত অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই সীমান্ত সংঘর্ষ ও বিমান হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও কাবুল, কান্দাহার এবং মাদক নিরাময় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা নিয়ে উভয় দেশ পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তান দাবি করেছে তারা জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, হামলায় সাধারণ নাগরিক ও শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষের দাবি করা হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে মোড় নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন