রাজধানীর বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই গবেষণায় প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সংগৃহীত ৬০টি নমুনার ওপর আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এই বিশ্লেষণ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের মাত্রা ১.২৪ গুণ বেশি, যেখানে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা পাওয়া গেছে। শিল্পকারখানার আধিক্য এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের ফলে এই দূষণ ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পিইটিই-সহ মোট ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বিশ্বে এই প্রথম ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি পাওয়া গেল। শনাক্ত কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশজাতীয় এবং ৫৬.২৯ শতাংশ স্বচ্ছ প্রকৃতির। খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তুলনামূলক কম ওজনের কারণে শিশুরা প্রতিদিন প্রায় ৭৭.২১টি এবং জীবদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার কণা গ্রহণের ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব ক্ষুদ্র কণা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। এর আগে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কঠোর নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।
মন্তব্য করুন