|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লেবাননে গির্জা ধ্বংস করে ‘খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা’ সাজার দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণে যখন লেবাননের বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মুখে, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত দাবি করে বসলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ৫ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, লেবাননের অনেক খ্রিষ্টান গ্রাম নাকি হিজবুল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে ইসরায়েলের সাথে যুক্ত হতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করছে। অথচ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

নেতানিয়াহুর এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। এমনকি লেবাননের কোনো গ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো আবেদন করেছে, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। উলটো বাস্তবতা হলো, গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যার ফলে সেখানে ঐতিহাসিক অনেক গির্জা এবং খ্রিষ্টান মঠ ধ্বংস হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ইয়ারুন গ্রামের একটি ক্যাথলিক মঠ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত এপ্রিলে ইসরায়েলি সেনার যিশুর মূর্তি ভাঙার ভিডিও এবং ভার্জিন মেরির মূর্তির অবমাননার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছিল।

লেবাননের স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে হিজবুল্লাহর সম্পর্কের বিষয়টিও নেতানিয়াহুর দাবির সাথে সাংঘর্ষিক। লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মিত্র হলো ‘ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট’, যা মূলত খ্রিষ্টানদের একটি বড় দল। সামরিক আগ্রাসনের শিকার লেবাননের সাধারণ মানুষ, যেখানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ ঘরছাড়া। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে চলা নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের সমর্থন ধরে রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতানিয়াহু খ্রিষ্টানদের সুরক্ষার কথা বলে মূলত নিজের দায় এড়াতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার চিত্র নেতানিয়াহুর কথার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুরক্ষার দাবিটি বিশ্ববাসীর কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর এই ধরণের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তিনি কি ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করছেন বলে আপনার মনে হয়? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভালো মানের প্রতি ভরি ২ ল

1

ইউরোপিয়ান ফুটবল ট্রান্সফার উইন্ডো লাইভ

2

করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করার পথে সরকার: বাজেট সংশোধনে সু

3

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির

4

কুকুরের স্কুলের মাসিক খরচ ২ লাখ টাকা: সাংহাইয়ের তরুণীর কাণ্ড

5

এইচএসসি পরীক্ষার সকালে বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে কলেজছাত্রীর

6

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিলের বিদায়ে সাক্ষী মেহজাবীন: ‘স্

7

ইরানের চেয়েও কাতার বেশি বিপজ্জনক: ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্

8

এপ্রিলের আগেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষের নির্দে

9

খুনোখুনি পছন্দ নয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ডোনাল্ড ট্র

10

সন্ধ্যার মধ্যে ১৭ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

11

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের জিয়াউর রহমান বিষয়ক বক্তব্য

12

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম বছরেই ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০

13

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কাছে ইসরাইলি সাবেক কর্

14

New Zealand vs Belgium: FIFA World Cup 2026 Match Preview

15

দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

16

বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে ৩৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শেষ

17

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৬টি বড় ঘোষণা

18

পল্লবী থানা থেকে কৌশলে হ্যান্ডকাপ খুলে উধাও সাজাপ্রাপ্ত আসাম

19

হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মাইনের আঘাত

20