২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিবিসি বাংলার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৭০ জন শীর্ষ নেতা এবং প্রায় ৪০ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রেখে দিনাতিপাত করছেন। এক সময় প্রায় ২০০ জন নেতাকর্মী ও কর্মকর্তা এই অঞ্চলে থাকলেও বর্তমানে অনেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতে থাকা নেতারা এখন আর আগের মতো স্বচ্ছল নন; পরিচিতজনদের আর্থিক সহায়তায় তারা ভাড়াবাসায় অতি সাধারণ জীবনযাপন করছেন এবং চলাচলের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এসব নেতা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ) ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মামলা মোকাবিলায় সহায়তা প্রদান করছেন। শেখ হাসিনার সাথেও মাঝে মাঝে ছোট ছোট দলে দিল্লিতে দেখা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে বাংলাদেশেই দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন এবং অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। বিশেষ করে রোকেয়া প্রাচী জানিয়েছেন কীভাবে পরিচয় গোপন রাখতে বোরকা পরে এবং বারবার সিম পরিবর্তন করে তিনি দীর্ঘ দেড় বছর বাংলাদেশে ছিলেন। বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইঙ্গিতের পর, ভারতে থাকা নেতাদের মধ্যেও দেশে ফিরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি আছে এবং এখন কেবল সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছেন।
মন্তব্য করুন