ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) আঘাত হেনেছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, কারাকাস থেকে ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পরপরই, ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। একের পর এক এই শক্তিশালী কম্পনে পুরো ভেনেজুয়েলা প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা: ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এবং তীব্রতা বিবেচনায় দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। কিছু প্রাথমিক পূর্বাভাসে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনো হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছাদ ধসে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষের চিত্র দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: কারাকাসের বাসিন্দারা এই অভিজ্ঞতাকে ‘মারাত্মক ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কম্পনের প্রভাবে মুহূর্তের মধ্যে ভবনের সিঁড়ি ভেঙে পড়েছে এবং দেওয়াল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভবন থেকে জিনিসপত্র খসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরকারি পদক্ষেপ: দেশের এই চরম দুর্যোগকালীন মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিগগিরই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
পুরো বিশ্ব এখন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন