আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের ওপর। একই সময়ে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজারে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৫ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছালেও, এর আগে তা ২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৩৬ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক এবং টেস্টিলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বন্ডের দাম কমেছে এবং ডলারের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বর্ণের চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে বাজার এখন সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই উত্তজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা আগে থেকেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলার সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন মূল নজর রেখেছেন ফেডারেল রিজার্ভের জুন মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণীর ওপর। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে ৬৩ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদার জন্য নেতিবাচক হয়। পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেও মিশ্র প্রভাব দেখা গেছে; রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মন্তব্য করুন