মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর আওতায় চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি রোববার প্রকাশ করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি। যদিও এই হামলায় রণতরীটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা আদৌ কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন পেন্টাগন এখনো মুখ খোলেনি। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে এক কঠোর প্রতিশোধমূলক জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানি বাহিনীর এই অভিযান কেবল একটি রণতরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা দাবি করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত সামরিক সদরদপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই আক্রমণকে তাদের প্রতিশোধের ষষ্ঠ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক আঘাত আসতে যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে পুরো অঞ্চলে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং তাদের অবস্থান দ্রুত নিবন্ধন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা এখন আর কেবল স্থানীয় দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সংকেত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন