ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক যুবককে কৌশলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদারের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিন এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ইমন হাওলাদার। উপজেলা ছাত্রদলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত এই দুই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ না রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ভুক্তভোগী যুবক মো. আল মামুন মিঠু বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচিত ও একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় গত শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াতের কথা বলে তাকে মনিরাম বাজারসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন পলিন ও ইমন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার বিরুদ্ধে সমকামিতার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয় এবং মাদকদ্রব্য সামনে রেখে জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাদের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে কৌশলে তাদের কবল থেকে পালিয়ে এসে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী মিঠু এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে অভিযুক্ত বহিষ্কৃত নেতা মো. মেহেদী হাসান পলিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে, ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন