ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র সামরিক অভিযান চললেও দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা সরকার খুব দ্রুত ভেঙে পড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেখছে না ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তার মতে, ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও ইরানি জনগণের মধ্যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এমন অপূরণীয় ক্ষতি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও ইরানিরা রাস্তায় নেমে সরকারের পতন ঘটাবে, এমন সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর দমনের হুমকির কারণে সাধারণ মানুষ বর্তমানে বিক্ষোভ করার চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। এছাড়া বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ইরানি জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের শুরুতে ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের (কুর্দি, বালুচ ও আরব) বিদ্রোহ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার সুর কিছুটা বদলেছে। তিনি বলেছেন, সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ইসরায়েলের লক্ষ্য হলেও সিদ্ধান্ত ইরানিদেরই নিতে হবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, হোয়াইট হাউস থেকে এখনো সংঘাত বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা ‘এন্ড গেম’ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে এখনো কোনো প্রকাশ্য ঐক্যমত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন