ঈশ্বরদীতে ক্যানে তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে কৃষকরা। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশির নির্দেশের পরও মেলেনি ডিজেল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও’র বক্তব্য জানুন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্যানে (ঢোপ) করে তেল বিক্রির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় শ্যালো মেশিন, পাওয়ার টিলার ও হারভেস্টর মালিকরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) উপজেলার শত শত কৃষক এই সমস্যার কারণে কৃষি কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে সেচ ও ধান কাটার এই মৌসুমে ডিজেল সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত রোববার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন (কুল ময়েজ)-এর নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জন কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান না পেয়ে ময়েজ উদ্দিন সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিকে ফোন করেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। মন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কৃষকদের অভিযোগ, সোমবার বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া স্লিপ বা চিরকুট নিয়েও ফিলিং স্টেশন থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানিয়েছেন, মন্ত্রীর নির্দেশনার পর নতুন প্যাড ছাপানোর কাজ চলছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা বৈধভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। অন্যদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, ক্যানে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পাম্প মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।