জাতীয় বাজেটের আকার যত বড়ই হোক না কেন, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা না গেলে তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নতুন অর্থ বছরের বাজেট পেশের দিন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খুব বড় বাজেট প্রণয়ন করা হলেও যদি কোনো কারণে তার ২০ বা ৩০ শতাংশ অর্থ লোপাট হয়ে যায়, তবে সেই মেগা বাজেটের কোনো কার্যকারিতা থাকে না। দেশের মানুষের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বাজেটের আকার বাড়ানোর চেয়ে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা এবং প্রতিটি বিভাগের সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যের সপক্ষে নিজের কার্যালয়ের মিতব্যয়িতা ও সততার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল ‘জুন ক্লোজিং’-এর নামে তাড়াহুড়ো করে অর্থ খরচের চিরাচরিত প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, তাঁর অফিসে আসবাবপত্র কেনার খাতের ১৯ লাখ টাকা বাজেট ল্যাপস (ফেরত) হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি অপ্রয়োজনীয় নয়-ছয় খরচ না করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের বসার চেয়ার কেনার ক্ষেত্রে দরদাম করে সরকারি টাকা বাঁচানোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাত্র ৮০ থেকে ৯০ টাকায় দুপুরের সাধারণ খাবার খাওয়ার মিতব্যয়ী দৃষ্টান্তও উল্লেখ করেন। অতীতের মতো দেশের টাকা যেন কোনো উপায়ে আত্মসাৎ বা নয়-ছয় না হয়, তা প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন