মালয়ালাম সিনেমার জনপ্রিয় তারকা প্রিথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনীত এবং ব্যাচেলর খ্যাত পরিচালক বৈশাক পরিচালিত নতুন সিনেমা 'খলিফা' বড় পর্দায় মুক্তির পর থেকেই বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আশির বা নব্বইয়ের দশকের পরিচিত সব গ্যাংস্টার ও স্মাগলিং কাহিনীর চর্বিত চর্বণ এই সিনেমাটি। গোল্ড স্মাগলিং বা স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যাকগ্রাউন্ডে তৈরি হওয়া এই গল্পে নতুনত্ব কিংবা গভীরতার বেশ ঘাটতি রয়েছে, যা দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে আমির আলী (প্রিথ্বীরাজ সুকুমারন) নামের এক চরিত্রকে কেন্দ্র করে। বংশপরম্পরায় চোরাচালানের রক্ত বইলেও সে প্রথমে সহজ-সরল জীবন বেছে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী মহীতোহদের কারসাজিতে তার সৎ বাবার কাঁধে ঋণের বোঝা চেপে বসলে বাধ্য হয়েই সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুনিয়ায় পা রাখে এবং পরবর্তীতে অন্যতম সেরা স্বর্ণ চোরাকারবারী হয়ে ওঠে। আবেগঘন একটি পারিবারিক পটভূমি দিয়ে শুরু হলেও চিত্রনাট্যের দুর্বলতার কারণে সেই ইমোশন দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারে না। জিনু আব্রাহামের লেখা চিত্রনাট্যে পুরনো দিনের মসলাদার কাহিনীর আধিক্য রয়েছে, যা বর্তমান সময়ের আধুনিক দর্শকদের জন্য বেশ পুরোনো মনে হতে পারে।
প্রিথ্বীরাজ সুকুমারন তাঁর চিরচেনা স্টাইলিশ লুক এবং অনবদ্য স্ক্রিন প্রেজেন্স দিয়ে সিনেমাটিকে একা হাতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং মারকাট লুক বেশ প্রশংসনীয়। তবে দুর্বল চিত্রনাট্য, নিস্প্রভ ভিলেন এবং সাদামাটা সংলাপের কারণে পুরো সিনেমাটি একসময় একঘেয়ে হয়ে পড়ে। এমনকি সিনেমার শেষ মুহূর্তে মেগাস্টার মোহনলালের একটি চমকপ্রদ ক্যামিও বা বিশেষ উপস্থিতি রাখা হলেও তা সিনেমার মূল দুর্বলতা ঢাকতে যথেষ্ট ছিল না। সব মিলিয়ে, আকর্ষণীয় সেট ডিজাইন ও চমৎকার কিছু অ্যাকশন দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও দুর্বল গল্প ও মেকিংয়ের কারণে 'খলিফা' একটি গড়পড়তা সিনেমা হিসেবেই থেকে গেছে।
মন্তব্য করুন