আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত স্পেশাল থিয়েট্রিক্যাল রি-রিলিজ ‘অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম এনকোর’। আসন্ন সিনেমাটিতে অতিরিক্ত চার মিনিটের ফুটেজ এবং আইম্যাক্স ফরম্যাটের আপডেট ছাড়াও এমন একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। আর সেটি হলো সিনেমার সম্পূর্ণ কালার গ্রেডিং বা রঙের ব্যবহারে নাটকীয় পরিবর্তন। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ২০১৯ সালের মূল মুক্তির সময় যে বিবর্ণ, ধূসর ও কম স্যাচুরেশনের লুকটি ছিল, নতুন সংস্করণে সেটি বাদ দিয়ে বেশ ঝকঝকে, গাঢ় ও প্রাণবন্ত রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্ভেলের এই হঠাৎ পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মতামত স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একদল ভক্ত এই নতুন লুকে ভীষণ উচ্ছ্বসিত। তাদের মতে, আগের সংস্করণটির ধুসর ও ম্যাড়ম্যাড়ে ভাব কেটে গিয়ে নতুন কালার গ্রেডিংয়ের ফলে শেষ যুদ্ধের দৃশ্যটিকে এখন অনেক বেশি জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ভিলেন থানোসের ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও কমিকস-নির্ভর বেগুনি রঙ ধারণ করেছে, যা তার গ্যাল্যাকটিক সুপারভিলেন ইমেজকে আরও জোরালো করে তুলেছে। অনেকে তো এও বলছেন যে, ২০১৯ সালের আসল কাটটি এখনকার তুলনায় বেশ মলিন দেখায়।
অন্যদিকে, এর ঠিক উল্টো মত দিয়েছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, কোনো একটি ল্যান্ডমার্ক চলচ্চিত্রে এভাবে অতিরিক্ত হাত দেওয়া বা পরিবর্তন আনা পরিচালকদের মূল শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি এক ধরনের অবিচার। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ একে বর্তমানের অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড টিকটক এডিটের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই কৃত্রিম উজ্জ্বলতা আসলেই সিনেমাটির মান বাড়িয়েছে কি না। ডিসেম্বরের আসন্ন ‘অ্যাভেঞ্জার্স ডুমসডে’ সিনেমার সঙ্গে গল্পের সেতু বন্ধন তৈরি করতেই মার্ভেল স্টুডিওস তাদের ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজে এই পরিবর্তন আনছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল সংস্করণের নস্টালজিয়া ধরে রাখা উচিত নাকি সময়ের সঙ্গে আধুনিক ও ঝকঝকে লুকে এটি দেখা উচিত—তা নিয়ে ভক্তদের এই বিতর্ক সিনেমা মুক্তির পরও দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
মন্তব্য করুন