জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যে হাজার হাজার নেতাকর্মী আজ ছিন্নমূল অবস্থায় জীবনযাপন করছেন, বাজেটে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তার ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়, বরং একটি ‘বাস্তবভিত্তিক, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, এই বাজেট তারই প্রতিফলন।
বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ: শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে বাজেটের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেন:
কৃষি খাত: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ এবং ২৫ লাখ ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও সার বিতরণ।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: ই-হেলথ কার্ড চালু, শিশু হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা।
প্রযুক্তি: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন সুযোগ এবং দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগ।
পরিবহন ও জ্বালানি: নারী ও শিশুদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু এবং ইলেকট্রিক বাসের মাধ্যমে পরিবহন খাতে আধুনিকায়ন।
সরকারি ঋণ গ্রহণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি ভোগবিলাসের জন্য নয়, বরং কৌশলগত বিনিয়োগের জন্য নেওয়া হয়েছে যা বাজারে স্থিতিশীলতা ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্তকেও তিনি স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মনে করেন, এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দলিল। সবশেষে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন।
মন্তব্য করুন