সরকার গঠনের পর ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা। ইতোমধ্যে প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১২ শ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হলেও স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতার অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটি শুরুতেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সরকারের নীতিমালায় অন্তত ৫০ শতাংশ কাজ শ্রমিকের হাতে সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক শর্ত থাকলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় শ্রমিকদের বাদ দিয়ে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে দায়সারাভাবে খননকাজ চালানো হয়েছে এবং কোথাও কোথাও খালের অস্তিত্ব না থাকলেও শুধু কাগজে-কলমে বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পগুলোতে শুভংকরের ফাঁকি দিয়ে অর্থ লোপাটের নানা অভিনব কৌশল নেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা না বাড়িয়ে কেবল পাড়ের ঘাস ও আগাছা পরিষ্কার করেই পুরো কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে এই নামমাত্র খননের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং পাড় ধসে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া দুর্নীতি ঢাকতে সরকারি কোষাগারে অব্যয়িত টাকা ফেরতের নামে চলছে লোকদেখানো ‘আই ওয়াশ’। প্রায় ৮০টি উপজেলা থেকে বরাদ্দের উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত পাঠানোর আড়ালেও বড় ধরনের তছরুপের তথ্য মিলেছে।
রাজশাহীর বাগমারা, যশোর, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ফেনী, মাগুরা, বরগুনার আমতলী, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি, টাঙ্গাইলের কালিহাতী, রাঙামাটি এবং চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। কোথাও ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে শ্রমিকদের মজুরি আত্মসাৎ করা হয়েছে, আবার কোথাও মৃত বা ভুয়া শ্রমিকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের যোগসাজশে চলা এই অনিয়মের কারণে প্রান্তিক কৃষকরা প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগটি যাতে ব্যর্থ না হয়, সেজন্য অবিলম্বে কঠোর মনিটরিং এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকরা।
মন্তব্য করুন