|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইসলামী ব্যাংকের সংকট ও বাংলাদেশ ব্যাংক


২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর এস আলম গ্রুপের ধ্বংসাত্মক ঋণ কেলেঙ্কারি ও ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাটের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে উদ্ধার করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদ গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তায় দেশের বৃহত্তম এই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল, ঠিক তখনই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ব্যাংকটিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিবর্তে নতুন করে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২৪ মে ঈদের ছুটির ঠিক আগে সাবেক চেয়ারম্যানের আকস্মিক পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বিতর্কিত ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপ যখন ব্যাংকটি দখল করে বড় ধরনের অনিয়ম করছিল, তখন খুরশীদ আলমের রহস্যজনক নীরবতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন তাড়াহুড়ো করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোস্তাকুর রহমান রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিলেও, ইসলামী ব্যাংকের এই বিতর্কিত নিয়োগের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই নিয়োগের প্রতিবাদে শুধু জুনের প্রথম সপ্তাহেই ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত তুলে নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটিকে পুনরায় গ্রাহকদের টাকা তোলায় কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ তারল্য সহায়তা’ চাইতে হয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকটির সাথে ঐতিহাসিকভাবে সম্পৃক্ত থাকা রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং সাধারণ ব্যাংক কর্মীরা এই নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাংক অভ্যন্তরে ও রাজপথে জোরালো আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিনের মতে, ইসলামী ব্যাংকের এই অস্থিরতা এখন আর কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যা দ্রুত সমাধান না করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জমির শ্রেণি নির্ধারণে জটিলতা দূর করল নিবন্ধন অধিদপ্তর: খতিয়া

1

ইরান হয়ে পাকিস্তানের প্রথম স্থলপথ রপ্তানি শুরু: নতুন বাণিজ্য

2

ডিএসই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পরিবারের মানসিক চাপ ও উত্তরণের

3

সহ-অভিনেত্রীকে মারধরের অভিযোগ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে

4

বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা: আইসিসি-র মতামতের অপেক

5

সেমিফাইনালে হারের কারণ ব্যাখ্যা করলেন এমবাপ্পে: কোথায় ভুল ছি

6

Norway vs Senegal Prediction: ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ে ও সেনেগা

7

টানা ৩ দিন ইন্টারনেটে ধীরগতির শঙ্কা: সাবমেরিন ক্যাবল মেরামত

8

‘চোখের বদলে চোখ’, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ নিয়ে সতর্কবার্তা

9

বেক্সিমকো ফার্মার ৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা

10

মিশরের গোল বাতিল নিয়ে তোপ দাগলেন মরিনহো

11

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২০ হাজ

12

এমবাপ্পের নেতৃত্বের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন দিদিয়ের দেশম

13

চীনে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’: ৬ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেও

14

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠ

15

বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

16

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ও মডেল মসজিদ নির্মাণে সরকারের উদ্য

17

গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া শিপ রিসাইক্লিং নয়, কঠোর বার্তা শিল্প ও ব

18

গুম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার

19

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার ধাত্রী নিয়োগ দিচ্ছে সরকার

20