গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ শেষে বাজারে এখন দেখা মিলছে কুচকুচে কালো আর গাঢ় বেগুনি রঙের রসালো ফল জামের। কেবল টক-মিষ্টি স্বাদের জন্যই নয়, বরং অসাধারণ সব ঔষধি গুণের কারণে ফলটি পুষ্টিবিদদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। আমাদের অবহেলায় অনেক সময় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া এই ফলটি আসলে পুষ্টির এক বিশাল ভাণ্ডার। ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাত্র এক মুঠো বা ৮ থেকে ১০টি জাম রাখা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারি হতে পারে।
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং বিশেষ কিছু বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদানের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম একটি আদর্শ ফল। জাম খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বা সুগার স্পাইক বাড়ে না। এটি পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমশক্তির উন্নতিতেও জামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার, যা প্রাকৃতিকভাবে পেট পরিষ্কার রাখতে ল্যাক্সেটিভ হিসেবে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। জামের ফাইবার আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য জোগায় এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে সাহায্য করে, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।
জামের গাঢ় বেগুনি রঙের পেছনে রয়েছে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক একটি শক্তিশালী উপাদান, যা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা সচল রাখতে এবং বাতের ব্যথা ও জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে উপশম দিতে অত্যন্ত কার্যকর। জাম খাওয়ার সেরা সময় হলো দুপুরের মাঝামাঝি সময় বা বিকালের নাস্তা হিসেবে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, একদম খালি পেটে জাম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ এর ভেতরের ট্যানিন উপাদান সংবেদনশীল পাকস্থলীতে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে চলতি মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত এক মুঠো জাম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন