২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলজেরিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে যখন গোলরক্ষকের জার্সির পেছনে ‘জিদান’ নামটি দেখা গেল, তখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের স্মৃতি ভেসে উঠেছিল। তবে এবার বিশ্বমঞ্চে জিনেদিন জিদান নন, বরং তাঁর ২৬ বছর বয়সী ছেলে লুকা জিদান আলজেরিয়ার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এবং বাবার রিয়াল মাদ্রিদ ক্যারিয়ারের সুবাদে স্পেনে বেড়ে ওঠা লুকা তাঁর পৈতৃক সূত্রের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলজেরিয়াকে বেছে নিয়েছেন। জিনেদিন জিদানের বাবা-মা আলজেরীয় হওয়ায় পরিবারে সবসময়ই একটি আলজেরীয় সংস্কৃতি ছিল বলে লুকা জানান। যদিও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচটি লুকার জন্য সহজ ছিল না, কারণ লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছে। তবে এই হার সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে জিদান উপাধির প্রত্যাবর্তন এবং মুখে একটি কালো রঙের সুরক্ষামূলক ফেস মাস্ক পরে লুকার লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাদার এই গোলরক্ষক গত এপ্রিল মাসে স্প্যানিশ লিগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের সাথে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের শিকার হন। ওই মারাত্মক দুর্ঘটনায় তাঁর চোয়াল ভেঙে যায়, চিবুকে আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর মস্তিষ্কের ঝাঁকুনি বা কনকাশনের সম্মুখীন হন, যার ফলে তাঁর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করাই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে সঠিক সময়ে সুস্থ হয়ে আলজেরিয়ার এক নম্বর জার্সির দাবিদার হিসেবে তিনি ঠিকই মাঠে নামেন এবং চোটের সুরক্ষার্থেই মুখে বিশেষ মাস্ক ব্যবহার করেন।
শৈশব থেকেই আলজেরীয় সংস্কৃতির মধ্যে বড় হওয়া লুকা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, আলজেরিয়ার হয়ে খেলতে পারাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং এর মাধ্যমেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি পূরণ করেছেন। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং ২০০৬ সালে দলটিকে ফাইনালে তোলা জিনেদিন জিদানের পর, দুই দশক বা বিশ বছর বাদে ‘জিদান’ নামের এই পুনরাগমন আলজেরিয়ার গোলপোস্টের এক নতুন গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করল।
মন্তব্য করুন