সাভার পৌর এলাকার একটি মাদরাসায় ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে দফায় দফায় বলাৎকারের মর্মান্তিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদরাসার এক শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা এবং গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ঘটনার প্রায় দেড় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযুক্ত আসামিরা সবাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার ‘মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’ মাদরাসার মক্তব বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ওই শিশুকে ভর্তি করানো হয়েছিল। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় রুটিন ধরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করতে শুরু করে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই মাদরাসার মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন বিষয়টি জানার পর শিশুটিকে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন এবং গলাটিপে ধরে হত্যার হুমকি দেন। এছাড়া অন্য শিক্ষক ও অভিযুক্তরাও বিষয়টি গোপন রাখতে শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ভুক্তভোগীর বাবা, যিনি একটি পোশাক কারখানায় সাধারণ স্টোর কিপারের চাকরি করেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান যে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে তার ছেলের বায়ু পথে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি গভীর ট্রমায় ভুগছে এবং প্রায় রাতেই ঘুমের মধ্যে আঁতকে উঠে ‘আমার গলা ছেড়ে দাও’ বলে চিৎকার করে ওঠে। নিম্ন আয়ের ওই পিতা তার সন্তানের সুচিকিৎসা ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন