বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় সদ্য শপথ নেওয়া প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দেওয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে যে, একজন ব্যক্তি যদি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে কেন তিনি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না এবং এর পেছনে আইনি বা সাংবিধানিক বাধা কী রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে জানান যে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকে, তবে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রেও এই সাংবিধানিক বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রযোজ্য হয়। এমনকি টেকনোক্র্যাট কোটায় বা সংসদ সদস্য নন এমন কাউকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাকে অন্তত সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন যে, এমপি পদে অযোগ্য কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য হতে পারেন না।
অন্যদিকে, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে হুমায়ুন কবির এর আগে কীভাবে উপদেষ্টা ছিলেন। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, উপদেষ্টার পদটি সরাসরি কোনো সাংবিধানিক বা মন্ত্রিত্বের পদ নয়, বরং এটি সরকারের একটি প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক বিশেষ দায়িত্ব। এ কারণে উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের মতো একই ধরনের কঠোর সাংবিধানিক শর্ত বা বাধ্যবাধকতা সবসময় প্রযোজ্য হয় না। শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুবাদে হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও, শপথ নেওয়ার আগে তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নির্বাচন করার আগেই মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন বলে জানা যায়। সব মিলিয়ে সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য মন্ত্রিত্বের পথ বন্ধ থাকায় এই আইনি জটিলতা এখন দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন