আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া ট্রোলিংয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সার্চ ইঞ্জিন গুগলের রেজাল্টে সামনে এল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। গুগল সার্চে ‘৭ আপ খাওয়া দল’ লিখে অনুসন্ধান করলেই ব্রাজিল ফুটবল দলের তথ্য কিংবা ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ব্রাজিল-জার্মানি ম্যাচের ফলাফল সামনে চলে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই অদ্ভুত ফলাফলের মূল কারণ লুকিয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ে। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ঘরের মাঠে ব্রাজিল ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল। মিনেইরাও স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের একটি। সেই পরাজয়ের পর থেকেই ফুটবল সমর্থকদের একাংশ ব্রাজিলকে ব্যঙ্গ করার জন্য ‘সেভেন আপ’-এর রেফারেন্স টেনে ‘৭ আপ খাওয়া দল’ হিসেবে ট্রল করে আসছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল নিজে থেকে কোনো দলকে এই নামে বিশেষায়িত করেনি। গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম মূলত ইন্টারনেটে মানুষের সার্চ প্যাটার্ন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মিম ও ভিডিও কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে কাজ করে। গত এক দশকে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্রাজিলকে নিয়ে তৈরি করা হাজার হাজার ট্রল ও কন্টেন্টে ‘৭ আপ’ বা ‘৭-১’ শব্দগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে গুগলের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এই শব্দগুচ্ছের সাথে ব্রাজিল দলের একটি ডিজিটাল সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছে।
এটি কোনো কারিগরি ভুল নয়, বরং ডিজিটাল যুগে অনলাইন ট্রোলিং বা মিম কালচারের একটি স্বাভাবিক প্রতিফলন। ব্যবহারকারীদের সার্চের ধরন ও ট্রেন্ডের ওপর ভিত্তি করে গুগল এই ফলাফল দেখাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে এমন ট্রলগুলো আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা সরাসরি সার্চ রেজাল্টকে প্রভাবিত করে। তবে মনে রাখা জরুরি, এটি সম্পূর্ণভাবে সমর্থকদের তৈরি একটি বিদ্রূপাত্মক শব্দবন্ধ, যার সঙ্গে ফিফা বা গুগলের কোনো আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞার কোনো সম্পর্ক নেই।
ফুটবল বিষয়ক এমন আরও কোনো সাম্প্রতিক ট্রল বা রেকর্ড সম্পর্কে আপনার কি জানার আছে?
মন্তব্য করুন