ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোটা কি আদৌ লাভজনক ছিল—এমন প্রশ্ন তুলে খোদ ইসরাইলের ভেতর থেকেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে. মিডেল ইস্ট আইর বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন যে, অভিযানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি আগে জানা থাকত, তবে কোনোভাবেই তাঁরা এই যুদ্ধের পথে পা বাড়াতেন না. গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে ১২ দিনের যে যুদ্ধ ইসরাইল চালিয়েছিল, তার ফলাফল নিয়ে এখন খোদ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে. বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির পর নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে. তবে এত সমালোচনার মধ্যেও গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং ইসরাইলকে পারমাণবিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে.
গত ১৪ জুন পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সফল শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন থেকেই ইসরাইলি সমাজের ভেতর তীব্র শঙ্কা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়. অনেক ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞই এখন মনে করছেন, এই যুদ্ধের পর ইরান উলটো আগের চেয়েও শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে. চ্যানেল ১৩ নিউজের অভিজ্ঞ সামরিক বিশ্লেষক অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে.
সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই যুদ্ধের পর ইরানকে দমানো তো যায়নিই, বরং তারা রাজনৈতিকভাবে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে. অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতেই, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এটি শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকে একটি বড় কৌশলগত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে. সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়া এবং যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে ঘরের ভেতরেই বড় গলায় প্রশ্ন ওঠায় নেতানিয়াহু সরকার এখন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে.
মন্তব্য করুন