ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আসন্ন জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো দেশজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি সামরিক অভিযানে নিহতের চার মাস পর তার এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইরানি সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সীমান্ত এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শোকাহত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
ইরানের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য। আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে জানাজার মাধ্যমে এই আয়োজনের সূচনা হবে। এরপর সোমবার থেকে শুরু হবে শোক মিছিল। শোকযাত্রাটি তেহরান হয়ে ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম এবং পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং ৯০টিরও বেশি দেশের ধর্মীয় নেতারা এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন