গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের পুরোপুরি অপসারণ বা স্থানান্তর করাকেই এই সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎস। ওয়াইনেট নামক একটি ইসরাইলি প্রকাশনা সংস্থার আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি বাতিল করেননি, বরং কেবল স্থগিত রেখেছেন। আল জাজিরা এবং টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে উচ্ছেদ করার এই প্রক্রিয়াকে স্বেচ্ছায় ‘অভিবাসন’ বা ‘স্থানান্তর’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। কাৎস স্পষ্ট ভাষায় জানান, শেষ পর্যন্ত গাজার অন্য কোনো কার্যকর সমাধান নেই এবং এই অঞ্চলকে জনশূন্য করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা গত প্রায় তিন বছর ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যই হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে জাতিগতভাবে তাদের নির্মূল করা। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই ছিটমহল দখলের ধারণার পক্ষে সমর্থন জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরাইল এখনো গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং পুনর্গঠন কাজ আটকে রেখেছে। কাৎস জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকার যেকোনো উপায়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে মার্কিন সমর্থন জরুরি। তার মতে, জাতিগতভাবে এলাকা খালি করার এই পরিকল্পনা নিয়ে সবসময় আলোচনা চলছে এবং উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সহায়তায় এটি বাস্তবায়িত হবে। তবে কাটসের এই বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, ইসরাইলি মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তাদের প্রকৃত লক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে এবং এই অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন