হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দর, তেল টার্মিনাল এবং উপকূলীয় এলাকায় পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার’ (জেএমআইসি) জানিয়েছে, এই অবরোধ বিশ্বের যেকোনো পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
জেএমআইসির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে জাহাজ আটক, গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা কিংবা প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য গন্তব্যের জাহাজগুলোর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় গত ১৩ জুলাই থেকে ইরানের ওপর এই নতুন অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অবরোধের পাশাপাশি টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় চলাচলকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যাতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।
এই সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে ২০ শতাংশ ফি বা মাশুল আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সামরিক সংঘাত গোটা অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন থাকলেও, দুই দেশই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
মন্তব্য করুন