করাচির বেহাল অবকাঠামো, যানজট ও নিম্নমানের নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় চরম হতাশ হয়ে নিজের জন্মশহর ছেড়ে ইসলামাবাদে চলে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক সফল ক্রিকেট অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। সাবেক ক্রিকেটার ফাওয়াদ আলমের সঙ্গে সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে করাচির করুণ দশা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে করাচির মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করলেও পরিবারের উন্নত জীবনযাত্রার স্বার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান আফ্রিদি। করাচির যোগাযোগ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও অর্থ বিনিয়োগের পরও বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। কোরঙ্গি কিংবা ইউনিভার্সিটি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একসময় বলা হতো করাচি নাকি প্যারিস হবে—যা শুনে এখন আমার হাসি পায়।” তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের প্রশংসা করলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে জন্মভূমি ছাড়ার এই ঘোষণা দেন এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার।
নাগরিক সমস্যার পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন। সে সময় টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা আফ্রিদি জানান, তাকে বিশেষ কিছু খেলোয়াড়ের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছিল। তরুণ ক্রিকেটারদের বিতর্কিত সংস্রব থেকে দূরে রাখতে টিম ম্যানেজমেন্টকে আগেই সতর্ক করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল।
বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাবর আজম ও নিজের জামাতা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদিকে নিয়েও মতামত জানান আফ্রিদি। বাবরকে দেশের অন্যতম সেরা ও ধারাবাহিক ব্যাটার অভিহিত করে তিনি জানান, বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তি হতে হলে পারফরম্যান্সে আরও ধার এনে দলকে ম্যাচ জেতানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এছাড়া শাহীন শাহ আফ্রিদিকেও একসময় পাকিস্তান দলের অধিনায়কত্ব না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। আফ্রিদির মতে, পাকিস্তানে অধিনায়কত্ব ছাড়ার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয় না, আর কাউকে অধিনায়ক করা হলে তাকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া উচিত। পরিশেষে তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মোহ ত্যাগ করে শর্টকাট ছাড়া কেবল কঠোর পরিশ্রম ও খেলায় মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়েছেন সাবেক এই তারকা।
মন্তব্য করুন