ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকা যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের আর্তনাদে ভারী বাতাস। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায় সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর রাজধানীর কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকা যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আলেজান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত ছিল।” গুগলের সতর্কবার্তা পাওয়ার ঠিক এক সেকেন্ড পরেই প্রচণ্ড কম্পন শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে বহু ভবনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
আলেজান্দ্রো বেঁচে গেলেও তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ভূমিকম্পের সময়কার শব্দ ছিল অনেকটা বিমানের ইঞ্জিনের মতো। তার চোখে পুরো শহর এখন যেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। প্রতিটি গলিতেই ধসে পড়া দেওয়াল, কংক্রিটের স্তূপ এবং চারপাশ থেকে ভেসে আসছে আটকা পড়া মানুষের বাঁচার জন্য আর্তনাদ ও চিৎকার।
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন আমার দাদিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলাম, তখন দেখতে পাই চারপাশের ভবনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো সারাজীবনের জন্য স্থায়ী মানসিক ক্ষত হয়ে থাকবে।” আজকের দিনটিকে তিনি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে কত মানুষ আটকা পড়ে আছেন, তার সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা এবং আটকে পড়াদের চিৎকার থেকে বোঝা যাচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়াবহ। শহরজুড়ে আতঙ্ক আর স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এক মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। সরকার ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।