পাহাড়ের চূড়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন এক দুর্গ যেন আধুনিক ব্যস্ত শহরের বুকে সময়কে আটকে রেখেছে কয়েকশ বছর পেছনে। পাথরের দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করলেই অনুভব করা যায় রাজাদের উত্থান-পতন ও অতীতের নানা রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ক্যাসল রক নামক এক প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অবশেষের ওপর তৈরি এই দুর্গটি শত শত বছর ধরে স্কটল্যান্ডের ক্ষমতার কেন্দ্র ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এডিনবরা ক্যাসলের আকাশে মেঘ জমলে মনে হয়, ইতিহাসের কোনো পুরোনো চরিত্র নীরবে পাহারা দিয়ে চলেছে পুরো স্কটল্যান্ডকে।
স্কটিশ রাজপরিবারের বহু নাটকীয় ইতিহাস ও আবেগঘন অধ্যায়ের সাক্ষী এই দুর্গ। এর ভেতরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজা এবং মেরি, কুইন অব স্কটসের পুত্র জেমস ষষ্ঠ। রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার লড়াইয়ে ভরপুর সেই সময়ে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাতে এডিনবরা ক্যাসল ছিল অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। ১৩১৪ সালে স্কটিশ স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় রবার্ট দ্য ব্রুসের অনুসারীদের কৌশলী দুর্গ পুনর্দখল করার ইতিহাস আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। বর্তমানে পর্যটকরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, একসময়ে ঠিক সেই জায়গাতেই চলেছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি।
দুর্গের ভেতরে রয়েছে স্কটিশ ইতিহাসের অমূল্য সব নিদর্শন। ‘হনার্স অব স্কটল্যান্ড’ নামে পরিচিত স্কটল্যান্ডের রাজমুকুট ও রাজদণ্ডের পাশাপাশি এখানে রয়েছে পুরোনো কারাগার, সামরিক জাদুঘর এবং রাজকীয় প্রাচীন স্থাপত্য। এছাড়া এখানকার বিখ্যাত ‘ওয়ান ও’ক্লক গান’ বা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কামানের শব্দ শোনার ঐতিহ্য পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। একসময়ের যুদ্ধের সংকেত আজ পরিণত হয়েছে ইতিহাসের জ্যান্ত স্মারকে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতির শহর এডিনবরার হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুর্গটি প্রমাণ করে যে আধুনিকতার শিকড় সবসময় অতীতের মাটিতেই প্রোথিত থাকে, আর এডিনবরা ক্যাসল তেমনই এক অনন্য ইতিহাস যা আজও স্কটল্যান্ডের স্মৃতি আগলে রেখেছে।
মন্তব্য করুন