ঢাকা সেনানিবাসের সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাসদরে সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবি সম্বলিত গ্যালারি পরিদর্শনের সময় একটি বিশেষ মুহূর্তে তিনি থমকে দাঁড়ান, যেখানে সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবির সারিতে তিনি তার বাবার ছবি দেখতে পান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবির তালিকা ঘুরে দেখেন। ওই গ্যালারিতে জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ মোট ১২ জন সাবেক সেনাপ্রধানের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল। বাবার ছবিটির সামনে এসে তিনি কিছু সময় থমকে থেকে পুরোনো স্মৃতি ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রূপ তৈরিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের অসামান্য ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে একটি পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী গড়ে তুলতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। পদোন্নতির মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামরিক শৃঙ্খলা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর নিরলস ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি সেনাপ্রধানসহ পুরো বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)।
মন্তব্য করুন