একসময়ের পরিত্যক্ত এবং আগাছায় ভরা এক টুকরো জমি এখন হলুদ রঙের চাদরে ঢাকা পড়েছে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর গ্রামে কৃষক শাহাদাত হোছাইনের হাত ধরে এসেছে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। যে জমিতে আগে বর্ষায় পানি জমে থাকত আর শুষ্ক মৌসুমে আগাছা জন্মাত, সেখানে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। এক সময় তামাক চাষে অভ্যস্ত শাহাদাত কৃষি বিভাগের উৎসাহ ও প্রণোদনায় এবার সূর্যমুখী চাষের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যা এখন তাকে বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
মাত্র ২০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খরচ এবং সরকারি বীজ ও সারের সহায়তায় শুরু করা এই বাগান থেকে শাহাদাত এখন লক্ষাধিক টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন। তার বাগানের প্রায় ২০ হাজার গাছ থেকে যে পরিমাণ তেল উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তা বাজারে বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হতে পারে। এই বিপুল লাভের সম্ভাবনা কেবল শাহাদাতকেই নয়, এলাকার অন্য কৃষকদেরও নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। তামাকের মতো ক্ষতিকর চাষাবাদ ছেড়ে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক সূর্যমুখী চাষে এখন অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তবে এই বাগানটি কেবল অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্পই নয়, এটি এখন স্থানীয়দের জন্য এক চিলতে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন এই হলদে আভার সৌন্দর্য উপভোগ করতে, তুলছেন রঙিন সব ছবি আর ভিডিও। কৃষক শাহাদাত তার এই সাফল্যে যেমন আনন্দিত, তেমনি দর্শনার্থীদের ভিড় দেখেও তার মন ভরে ওঠে। মাঝেমধ্যে উৎসুক মানুষের চাপে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি কাউকে বাধা দেন না; বরং মানুষের নির্মল আনন্দেই তিনি নিজের পরিশ্রমের সার্থকতা খুঁজে পান।
উপজেলা কৃষি বিভাগ এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। লোহাগাড়ায় এই চাষের বিস্তার একদিকে যেমন কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে, অন্যদিকে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করছে। শাহাদাত হোছাইনের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পরামর্শ আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো পতিত জমিকেই সোনার খনিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন